গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ৫ আগস্ট, ২০১৬

ভুল

০১..
সিরাজ সাহেবের মোবাইলে একটার পর একটা কল আসছে। তিনি বেশ বিরক্ত। মোবাইল বন্ধ রাখলেই ভালো হতো। কিন্তু সেটা করা সম্ভব না। যেকোন সময় খবর আসতে পারে। তাই মোবাইলটা সাথেই রাখতে হচ্ছে।
বেশির ভাগ নাম্বারই আননোন নাম্বার। পরিচয় দেয়ার পর চিনতে পারছেন।
: কে বলছেন?

মঙ্গলবার, ৩১ মে, ২০১৬

।।ঘুম।।

সাবিহা শুয়ে আছে। আগামীকাল সকালে তার ইউনিভার্সিটিতে ক্লাস আছে। ভোরেই বেরিয়ে পড়তে হবে। এখন তার ঘুমানো উচিত। কিন্তু সে ঘুমাচ্ছে না। অন্য সময় ঘুম না হলে বিছানার পাশে থাকা বুক সেলফ থেকে বই নিয়ে পড়ে। আজ সেখান থেকেও কোন বই নিচ্ছে না।
পাশের রুম থেকে গানের শব্দ আসছে। ওই রুমটি সাবিহার ভাই পলকের। ও গান শুনছে। ইদানিং পলক প্রেমে পড়েছে। ওর আচরণেই বোঝা যায়। যদিও স্বীকার করছে না। গত সপ্তাহে দেখে আয়না সামনে বেশ কিছুক্ষণ দাড়িয়ে আছে। মুখে ব্রণ উঠেছে দুইটা। সেগুলোতে ধরে ধরে দেখছে।

কবিতা ও প্রেম

০১...
"তুমি আমার কল্পনার অস্তিত্ব
কী বোর্ড চেপে হাজার বার লেখা নাম
রাতের স্বপ্ন, দিনের ভাবনা
হতাশার অন্ধ সময়গুলোতে একটা বড় প্রেরণা"
একটু আগে লেখাটি পেয়েছে সোনিয়া। তার বিরক্ত লাগছে। কবিতা লিখতে না পারলে কবিতা লিখতে বলে কে! দেশে কি কবির অভাব হয়েছে যে সবাইকে কবিতা লিখতে হবে। কবিতা পড়তে সোনিয়ার অনেক ভালো লাগে। কাল বিষয়টা ফয়সালকে বলেছিল। চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে কবিতা লিখে পাঠায় দিলো। ভাবছে কি! কবিতা লিখলেই তার প্রেমে পড়ে যাবে।

শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি, ২০১৬

হেলিকপ্টার (গল্প)

আখির মন খারাপ। এতদিন যে রুমে থাকতো সে রুম ছাড়তে হবে, যে টেবিলে পড়তো তা ছেড়ে যেতে হবে। শুধু রুম, টেবিল না। শহরটাই ছাড়তে হবে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েছে। সেখানেই চলে যেতে হবে। সামনে এক জানুয়ারি থেকে ক্লাস শুরু। দিন যত ঘনিয়ে আসছে তত মন খারাপ বাড়ছে।
ওরা দুই ভাই বোন। ভাইটা ওর ছোট। ক্লাস ফোরে পড়ে। ভাইকে, মা-বাবা ছেড়ে থাকতে হবে। ভাবতেই মন খারাপ হয়ে যাচ্ছে। অসুস্থ হলে আর মা মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে পারবেন না। রাত জেগে পড়তে দেখলে নুডলস, চা বানিয়ে দেবেন না।

রোবট (গল্প)*

প্রক্সি দিয়ে ফেসবুক চালানো হচ্ছে। একটা সময় টিউশনির ক্ষেত্রে প্রক্সি ব্যাপারটা চালু ছিল। বন্ধু আবীর একটা ইন্টারভিউ দিতে ঢাকা যাবে। যাওয়ার সময় অনুরোধ করে যে কয়দিন সে থাকবে না, সে কয়দিন যাতে ওর একটি টিউশনি আমি করে দিই।
হাতে তেমন কাজ ছিল না। ওর থেকে শুনতাম বিভিন্ন ভালো ভালো নাস্তা দেয়। এ শহরে আত্মীয় বলতে কেউ নেই। হয় নিজে বানিয়ে খেতে হয় নাহয় বাহিরে হোটেল থেকে কিনে খাওয়া। বাসার খাবারের স্বাদ ভুলে যেতে বসেছি। টিউশনিতে গেলে খাওয়া যাবে এ ব্যাপারটা অতি গুরুত্বপূর্ণ ধরে তাই রাজি হয়ে গেলাম।

শুক্রবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৫

"রক্ত ও সম্পর্ক : একটি গল্প" (গল্প)

নাফিসের চাকরিটা হঠাৎ করে পাওয়া। বড় অঙ্কের বেতন। এ অল্প বয়সে এত টাকা কি করবে তা নিয়ে মাঝে মাঝে ধাধায় পড়ে যায় সে। তার একটা বন্ধু সার্কেল আছে। কিছু হলেই ট্রিট চায়।

ট্রিট দিতে নাফিসের কোন আপত্তি নেই। দেয়াই হয়। তাতে কিছু টাকা কমে। হাতে এতগুলো টাকা থাকলে অস্বস্তি হয়। কমলেই ভালো। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ট্রিট যখন দেয় নিজেকে ওর গাভী মনে হয়। ছোটখাটো কিছু হলেই ট্রিট দেয়ার আব্দার ধরে। আর প্রতিবারই তার কাছে নিজেকে গাভী মনে হয়। যেন তার কাজই এটা। ট্রিট দেয়া।
যদিও ওপর দিয়ে মুখে হাসি রেখেই সে অংশ নেয়। ইতোমধ্যে কয়েকটা মেয়েও খুব সঙ্গ চাচ্ছে। তাকে নিয়ে রেস্টুরেন্টে গিয়ে চেক ইন দেয়। নীলা, ফারিয়া, নাইমা এদের সাথে বেশ কয়েকবার যাওয়া হয়েছে। যে কেউ দেখলে ভাববে ওদের মধ্যে অনেক বেশি ভালো বন্ধুত্ব।

বৃহস্পতিবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৫

অনুরোধ (গল্প)*

তমার সাথে আমার ডিভোর্স হয়ে যাচ্ছে। কাগজপত্র অনেকটাই রেডি। দুই জনে স্বাক্ষরের পর তার কাজ শেষ। দেড় বছরের সম্পর্ক কাগজে কলমে শেষ হচ্ছে। আমার কেমন লাগছে, তা দেখাচ্ছি না। উপর দিয়ে একটা ফূর্তির ভাব ধরে রেখেছি। তমা আগে থেকে কিছুটা গম্ভীর প্রকৃতির। খুব কাছের কারো সাথে সে অনেক চঞ্চল। আবার দূরের কারো সাথে সে পুরাই অন্যরকম। একটা গাম্ভীর্য নিয়ে থাকে। কিছু বললে হাসি মুখে উত্তর দেয়। তাও মাপা হাসি। অতটুকু। নিজে আগ বাড়িয়ে কিছু বলে না।

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৫

মিথি আজ খুশী : গল্প


ডায়েরীর পাতা প্রায় শেষ পর্যায়ে। নতুন আরেকটি ডায়েরী নিতে হবে। মিথি ডায়েরীর পাতাগুলো উল্টায়। প্রতিদিন সে বাবাকে চিঠি লিখে। এটাকে ঠিক চিঠি বলা যায় না। কেননা লেখাগুলো ডায়েরীতেই থেকে যায়। পোস্ট করা হয় না। তবে যেহেতু লেখাগুলো বাবার উদ্দেশ্যেই লেখা হয় তাই চিঠি হিসেবেই দেখে। লেখার ওপর শিরোনাম দেয়। চিঠিতে সাধারণত শিরোনাম দেয়া হয় না।

বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

লাইক (গল্প)

সমস্যাটা ব্যাপক না, তারপরও চোখের লাগার মত। এষা ব্যাপারটা অনেক দিন ধরে খেয়াল করছে। ফেসবুক পেইজের কোন গল্পে কমেন্ট করলেই তাতে লাইক দেয় আনিস নামে একটা আইডি।

কোন গল্প পড়ে দেখা গেলো শুধু দু:খের ইমো দিয়েছে। কিন্তু ওই ছেলে তাতেও লাইক দিয়ে বসে আছে। প্রথমে ভেবেছিল লাইক ভাইরাসে আক্রান্ত ছেলেটা। অনেকের এ সমস্যা আছে। না পড়েই লাইক দিয়ে দেয়। অনেকটা নেশার মত। যেহেতু এ বিষয়টা এখনও চিকিৎসা বিজ্ঞানে অন্তর্ভূক্ত হয় নাই তাই আপাতত এর কোন চিকিৎসা নেই। তবে এষা একটা ব্যাপারে নিশ্চিত যেভাবে লাইক দেওয়া শুরু হয়েছে তাতে এক সময় এটা একটা মানসিক রোগ হিসাবে দেখা হবে।

হ্যাক (গল্প)

তানির প্রচন্ড দাঁত ব্যথা করছে। আঙ্গুল চেপে ধরে আছে দাঁতটায়। যতক্ষণ চেপে ধরে থাকে ততক্ষন একটা শিরশিরে অনুভূতি হয়। কিছুটা ভাল লাগে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার ব্যথা শুরু হয়। উপরের চোয়ালের ডান দিক হতে দুই নম্বর দাঁতটা। মাড়ির দাঁত ব্যাথাও বেশি। ইচ্ছা হচ্ছে হাতুড়ি দিয়ে বাড়ি মেরে দাঁতটাকে ফেলে দিতে। এ দাঁতটা এখন বড় শত্রু মনে হচ্ছে। নিজের শরীরের অংশ হিংস্র শত্রুর মত আচরণ করে ব্যাপারটা ভাবতে খারাপ লাগছে।

বিদায় ফেসবুক (গল্প)

এর আগে পরীক্ষা কিংবা অন্য কোন কাজের কারণে বেশ কয়েকবার ফেসবুক ডিএক্টিভ করা হয়েছে। কিন্তু কখনো ডিলিট করিনি। এবার তাই করতে যাচ্ছি। মন খারাপ। ভার্চুয়াল একটা সুন্দর জগত গড়ে উঠেছিল। বন্ধুদের সাথে আড্ডায় বেশ ভাল সময় কাটতো। আজ থেকে তা বন্ধ হয়ে যাবে।

আচ্ছা ফেসবুকের থেকে যে বিদায় নেওয়া এ ব্যাপারে কি স্ট্যাটাস দেওয়া যায়? কিছুক্ষণ চিন্তা করলাম। নাহ এভাবে লোকদেখানো স্ট্যাটাস দিয়ে লাভ নেই। লুকিয়ে বিদায় নিতে হবে। আর বিদায় নেওয়ার কারণটাও বলা যাবে না। আসলে ভার্চুয়াল জগতে কারো অনুপস্থিতি তেমন অনুভব করার সুযোগ পাওয়া যায় না। যে যায় তার জায়গায় অন্যজন কিংবা একাধিক জন এসে উপস্থিত হয়। আর অন্যদেরও বা কি দোষ দিবো। আমার নিজেরই তো অনেক বন্ধু ফেসবুক ছেড়ে চলে গেছে। তাদের কতজনেরই খবরই বা আমি রেখেছি। মাঝে হঠাৎ বা কোন কারণে ওই আইডি চোখে পড়লে ওর ওয়ালে লিখে আসা কেমন আছো। দায়িত্ব বলতে এতটুকুই পালন করেছি। অভাববোধটা কখনো তো সেভাবে অনুভব করি নাই। নতুনদের সাথে আড্ডা দিয়ে সে আগের মতই সময় কেটেছে।

ক্ষমা করা হবে না (গল্প)

ফ্লাক্স থেকে চা নিয়ে খায় সোনিয়া। রাত দুইটা বাজে। চোখে ঘুম আসছে। কিন্তু ওর ইচ্ছা রাত তিনটা পর্যন্ত পড়ে চার ঘন্টা ঘুমাবে। সেজন্য ঘুমটাকে পাত্তা দেয় না। ঘরের সবাই ঘুমে। মনে মনে দোয়া করতে থাকে মা-য়ের ঘুম যেন না ভাঙে। পাশের রুমেই ঘুমিয়েছেন। ঘুমাতে যাওয়ার আগে বলে দিয়েছেন তাড়াতাড়ি যেন ঘুমিয়ে পড়ে।
: সোনিয়া, তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়িস। ঘুম ভাল হলে মাথা ঠান্ডা থাকে। ফাইনাল পরীক্ষা, মাথা ঠিক না থাকলে উল্টা পাল্টা লিখে আসবি। রাত বেশি জাগিস না।

হাবিজাবি গল্প ** (গল্প)

আগে এমন কোন অভিজ্ঞতা নেই। তাই লজ্জা লজ্জা করছে সুমনের। সব কিছু কেমন যেন। খাটের ওপর বসে আছে তিথি। মাথায় ঘোমটা দেওয়া।

বিকালে নিজের অবিবাহিত জীবনের পরিসমাপ্তি টেনেছে। ঠিক টেনেছে বলা যায় না। ওর মা অনেক দিন ধরে বলতেছিল, ঘর খালি খালি লাগে। বউ আনা দরকার। প্রথমে কিছুটা আপত্তি করেছিল বটে। তারপরও কিভাবে যেন ঘটনা ঘটে গেলো। একসময় নিজেকে আবিষ্কার করলো জামাইয়ের সাজে বিয়ের মঞ্চে বসে আছে।

সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

নামহীন কৈশোর ( গল্প )

ডায়েরীটার দিকে বিরক্ত হয়ে তাকাচ্ছে আনিকা। কাল রাতে ডায়েরী লিখেছিল। নিজের লেখাগুলো পড়ে নিজেরই বিরক্ত লাগছে। আবার পড়ল। মনে হচ্ছে না কথাগুলো নিজে লিখেছে। অন্য কোন মেয়ে যেন লিখেছে। কিন্তু লেখাগুলো যে ওর নিজেরই এটাই সমস্যা। গুটানো অক্ষরে লেখা। ইচ্ছা হচ্ছে ডায়েরীর পাতাটা ছিড়ে ফেলতে। তারপর কুচিকুচি করে ছিড়ে ফেলে দিতে।

ওদের ক্লাসে রুবি কাগজ ছিড়ার ব্যাপারে ওস্তাদ। কাগজ ছিড়তে খুব মজা পায়। ওর কাজই যেন কাগজ ছিড়া। কাগজ ছিড়ে সেগুলো কারো মাথার উপর ছিটিয়ে দিয়ে বলে কি মজা কি মজা তোর বিয়া। এই পর্যন্ত আনিকারও বেশ কয়েকবার বিয়ে দিয়ে দিয়েছে রুবি।

আমারে কেউ জানেনা ( গল্প )

সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। বিকালটা যে এত তাড়াতাড়ি অন্ধকারে ঘনিয়ে এলো তা টেরই পায়নি শুভ্রা। এইতো আলো ছিল। পরক্ষণেই অন্ধকার হানা দিল, এরকম মনে হচ্ছে ওর কাছে। অন্ধকার যে খারাপ লাগে তা না। রাতের অন্ধকারের নিস্তবদ্ধতা, তারা ঝলমল মায়াবী রাতটা অনেক পছন্দ ওর। তবে এখন রাতের উপর বিরক্ত লাগছে প্রচন্ডরকমভাবে। আরেকটু পরে আসলে কি মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যেত।

লেকের উপর বসে আছে শুভ্রা। তার সাথে রফিক। রাত চলে আসায় বাসায় ফিরতে হবে তাড়াতাড়ি। বাবা এরি মধ্যে কল দিয়েছেন দুইবার। এই তো পথে বলেছে। অথচ সে এখনও লেকে বসে আছে। ঢাকা শহরে একটা মজা পরিচিত মানুষের দেখা হওয়া ভয় নেই।

রংচটা জীবন( গল্প )

ফ্যানের ভয়ংকর শব্দ। বাতাস আসছে সামান্যই। যে বাতাস আসছে তাতেও কেমন গরম একটা ভাব। গরম না কমিয়ে ফ্যান যেন আরো গরম বাড়াচ্ছে। তারপরও মনে শান্তি। ফ্যান ঘুরছে। কিছুটা ঠান্ডা কল্পনায় হলেও অনুভব করা যায়। সেটাও কম কিসে।

টেবিলের উপর একটা ম্যাগাজিন রাখা। বিদেশী ম্যাগাজিন। বেশ কিছু দৃষ্টিকুটু ছবি আছে। গল্পগুলোও বড়দের। খোরশেদ এবার অনার্স শেষ বর্ষে। যথেষ্ট বড় হয়েছে। তারপরও ওর কাছে মনে হয় বিয়ের আগে এসব গল্প পড়া ঠিক না। কিন্তু মনে হয় ঐ টুকুই। বুদ্ধিটা দিয়েছে মনির। ওরা একটা ইংলিশ কোর্সে ভর্তি হয়েছে। সেখানে একটা কথা-ই বার বার বলা হয়, বেশি বেশি ইংরেজী পড়তে হবে। ইংরেজী পত্রিকা পড়তে হবে।

অসময় ( গল্প )

বিকালটা শেষ হতে চলছে। একটু পরই আস্তে আস্তে আধাঁর নামবে। আধাঁরে ঢেকে যাবে চারপাশ। অর্থি বসে আছে খোলা উঠানে। আশে পাশে কেউ নেই। সবাই ঘরের ভিতর মজা করছে। কিন্তু ঐ মজাতে নিজেকে জড়াতে ইচ্ছা করে না অর্থির।

আজ দুপুরে সবাই ইচ্ছেমত সাঁতার কেটেছে পুকুরে। অর্থিকেও অনেক ডাকা হয়েছে কিন্তু ও যায় নি। অথচ একসময় এই সাঁতার কাটার সুযোগ পাওয়ার জন্যই বারে বারে গ্রামে আসতে চাইত। সে সময় সাঁতারও পারত না। এখন সাঁতার পারে। তারপরও নামতে একটুও ইচ্ছা করে না। ওর চাচাতো ভাই-বোনেরা সাঁতরে পুকুর পার হয়। একজন অন্যজনকে পানি ছুড়ে দেয়। প্রতিযোগিতা করে কে বেশিক্ষণ ডুবে থাকতে পারে।

আতঙ্ক ( গল্প )

বৃহস্পতিবার। দিনটা অন্য দিনের চেয়ে সুন্দর আবিরার। প্রতি সপ্তাহে এই দিনটির অপেক্ষায় থাকে সে। এই দিনে স্কুল লাইব্রেরী থেকে বই নেওয়া যায়। সে বই এক সপ্তাহ রাখা যায়। আবিরা বই পড়তে অনেক পছন্দ করে। তবে সমস্যা একটা। একটার বেশি বই নেওয়া যায় না। একটা বই পড়তে বেশি হলে একদিন লাগে। অনেক বই ই এক বসাতে পড়া হয়ে যায়।

লাইব্রীয়ানের দায়িত্ব পালন করেন শিশির স্যার। আবিরা একদিন স্যারকে বলে বসে, স্যার একটার বেশি বই দেওয়া যায় না?

দুঃখ ( গল্প )

ঝর্ণার পানি গুলো পড়ছে অনেক উপর থেকে। একেবারে স্বচ্ছ সে পানি। পানির পড়ার একটা সুন্দর শব্দ। পানি যেখানে পড়ছে সেখানে মাটি জমে গেছে। পাথরের মত শক্ত সে স্থান। পানি পাহাড়ের পথ ধরে অনেক দূর ভিতরে চলে যায়। রকিবের ইচ্ছা হয় ভিতরে গিয়ে সেসব পানি কতদূর যায় তা দেখার। কিন্তু যে পিচ্ছিল আর ঘন বন তা সম্ভব নয়।

কিছুক্ষণ আগে বৃষ্টি হয়েছে। বনের লতাপাতা গাছগুলো অনেক সবুজতর হয়েছে। পাতায় লেগে আছে বৃষ্টির পরশ। সে পাতায় হাত দিলে পিচ্ছিল একটা অনুভূতি। রবিন পাতায় হাত দিয়ে সে পানি স্পর্শ করছে। আর শাহীন দেখছে দূরের পাহাড়টা। ওর একটা স্বপ্ন। উঁচু পাহাড় জয়ের। তবে বর্ষা কাল এখন। তাই যাওয়া যাবে না।

বিমূর্ত স্বপ্ন ( গল্প )

নিদারুণ কষ্ট হচ্ছে। কখনো কখনো কিছু ক্ষেত্রে চরম আফসোস জাগে। ভালর জন্য অন্যকে কিছু শিখিয়ে পরে যদি কষ্ট পেতে হয় তখন আফসোস বহুগুণে বেড়ে যায়। কেন শিখাতে গেল তা ভেবে মাথা খুড়ে মরার উপক্রম হয়। এমনও হয় এক দক্ষ সৈনিক এক তরুণকে অস্ত্র শিক্ষায় পারদর্শী করে তুলল। পরে দেখা গেল যাকে শেখানো হলো তার হাতেই মৃত্যু হলো ঐ দক্ষ সৈনিকের। এই যেন দুধ কলা দিয়ে সাপ পোষা।

নাহ সৌরভের ব্যাপারটা এত কঠিন না। তারপরও ও অনেক আফসোস করছে। বার বার চিন্তা করছে কেন যে শেখাতে গেল। এদিকে বন্ধু সাদিককে ব্যাপারটা খুলে বলেছে। সাদেক কথাটা শুনে এক কথায় উত্তর দিয়েছে, গাধাদের এরকমই হয়।