কলমের কালি শেষ। অথচ আর একটা সিগনেচার দিলেই কাজ শেষ হয়ে যেত। আবেদন
পত্রের শেষের সিগনেচারটা। এমনই হয়! দেখা গেলো কোন কাগজ তখনি ফটোকপি দরকার।
দোকানে গেলাম। কাজ চলছে পুরোদমে। ফটোকপি করার জন্য দোকানদারের হাতে দিই।
ওই মুহূর্তে বিদ্যুত চলে যায়।
আমি পৌছার এক মিনিট আগে বাস ছেড়ে দেয়। প্রতিদিন লেইট করে। আমি যেদিন যাই সেদিনই শুধু একেবারে জাস্ট টাইমে গাড়ি ছেড়ে যায়।
নাফিসের চাকরিটা
হঠাৎ করে পাওয়া। বড় অঙ্কের বেতন। এ অল্প বয়সে এত টাকা কি করবে তা নিয়ে মাঝে
মাঝে ধাধায় পড়ে যায় সে। তার একটা বন্ধু সার্কেল আছে। কিছু হলেই ট্রিট চায়।
ট্রিট দিতে নাফিসের কোন আপত্তি নেই। দেয়াই হয়। তাতে কিছু টাকা কমে। হাতে
এতগুলো টাকা থাকলে অস্বস্তি হয়। কমলেই ভালো। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ট্রিট যখন
দেয় নিজেকে ওর গাভী মনে হয়। ছোটখাটো কিছু হলেই ট্রিট দেয়ার আব্দার ধরে। আর
প্রতিবারই তার কাছে নিজেকে গাভী মনে হয়। যেন তার কাজই এটা। ট্রিট দেয়া।
যদিও ওপর দিয়ে মুখে হাসি রেখেই সে অংশ নেয়। ইতোমধ্যে কয়েকটা মেয়েও খুব
সঙ্গ চাচ্ছে। তাকে নিয়ে রেস্টুরেন্টে গিয়ে চেক ইন দেয়। নীলা, ফারিয়া, নাইমা
এদের সাথে বেশ কয়েকবার যাওয়া হয়েছে। যে কেউ দেখলে ভাববে ওদের মধ্যে অনেক
বেশি ভালো বন্ধুত্ব।
: আচ্ছা, আপনি আমাকে এত ঘন ঘন ফোন দেন কেন? ফেসবুকে বসতে না বসতে নক দেন। : বিরক্ত? ঠিক আছে বিরক্ত হলে আর দিবো না। : নাতো। আমি কি সেটা বলেছি নাকি? : প্রশ্ন করলে যে! : ফোন দিয়ে কথা বলেন না। বেশির ভাগ সময়ই আমার কথা বলতে হয়। আমিই বকবক করি।
জাতীয় পরিচয় পত্রে কিছু সংশোধনী প্রয়োজন। নির্বাচন কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানতে পারলাম, সোনালী ব্যাংকে ২৫৩ টাকা জমা দিতে হবে।
বুধবার সাড়ে তিনটার দিকে গেলাম আগ্রাবাদ সোনালী ব্যাংকে। ১২ নম্বর
কাউন্টারে এ বিষয়ে টাকা জমা নেয়া। বিশাল পরিসর নিয়ে ব্যাংক। অন্য কাউন্টারে
ভীড় থাকলেও ওই কাউন্টারে তেমন ভীড় নেই। যিনি ভেতরে আছেন তিনি খুব বিরক্ত।
তাদের মধ্যে ছোট খাটো ঝগড়া প্রায় সময় হয়। ঝগড়া করা মেয়েটির শখ। ছেলেটি আগে ঝগড়া করতে পারতো না। এখন সেও কিছুটা শিখে নিয়েছে।
তার ওপর দুইদিন আগে একটা অনলাইন নিউজে ঝগড়া করার ১০১ টা টিপস লেখাটা পড়েছে। সেটা পড়ার পর ছেলেটির আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেছে।
আজকের ঝগড়াটা পিকচার নিয়ে। মেয়েটিই শুরু করল।
: তুমি আমার হলুদ রঙ্গের শাড়ি পড়া ছবিটায় লাইক দাও নি কেন?
তখন ছোট। আমাদের বাসা আর নানা-নানুর বাসা পাশাপাশি। নানুর বাসায়
বিটিভিতে রাত আটটার সংবাদ খুব মনযোগ দিয়ে দেখতাম। না খবরগুলো না। খেলার
খবর। সেটা দেখার জন্যই বসে থাকতাম। যদি হুট করে খেলার খবর চলে যায়! তাই
পুরাটা সময় বসে থাকা। খেলার খবর পাওয়ার ওইটাই ছিল ভরসা। সপ্তাহে একদিন
মঙ্গলবার বিটিভিতে রাতে নাটক হতো। রাত আটটার সংবাদের পর।
তমার সাথে আমার ডিভোর্স হয়ে যাচ্ছে। কাগজপত্র অনেকটাই রেডি। দুই জনে স্বাক্ষরের পর তার কাজ শেষ। দেড় বছরের সম্পর্ক কাগজে কলমে শেষ হচ্ছে। আমার কেমন লাগছে, তা দেখাচ্ছি না। উপর দিয়ে একটা ফূর্তির ভাব ধরে রেখেছি। তমা আগে থেকে কিছুটা গম্ভীর প্রকৃতির। খুব কাছের কারো সাথে সে অনেক চঞ্চল। আবার দূরের কারো সাথে সে পুরাই অন্যরকম। একটা গাম্ভীর্য নিয়ে থাকে। কিছু বললে হাসি মুখে উত্তর দেয়। তাও মাপা হাসি। অতটুকু। নিজে আগ বাড়িয়ে কিছু বলে না।
: কিছু মেয়েকে সুন্দর হওয়ার জন্য অনেক সাজতে হয়। অনেক সময় ব্যয় করে তবে
ঘর থেকে বেরোতে হয়। আর কিছু মেয়ে এম্নেতেই অনেক সুন্দর। তাদের সাধারণ
চেহারাটাই অসাধারণ! : তো? : এই মুহূর্তে আমি তেমন একজন অসাধারণ মেয়ের সাথে কথা বলছি। : এসব কথাগুলো এখন থাক।
: আপনার মোবাইলটা একটু দেবেন? : আমার মোবাইল দিয়ে তুমি কি করবে? : একটা কথা লিখে আমার মোবাইলে পাঠাবো। আপনি তো কখনও পাঠাবেন না। তাই আমিই পাঠাই। : তুমি পাঠালে সেটা তো আমার কথা হবে না। : সান্ত্বনাতো অন্তত পাবো। আমার যখনই মন খারাপ হবে ওই মেসেজটি দেখবো। মন ভালো হবে।