বৃহস্পতিবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৫

টিভি কেনার গল্প (শৈশব)


রম্য :

১. রস আলো :প্র.আ  ২. প্যাচাল ৩.  রকমারি রম্য : বা-প্র  ৪.   ৫.

ম্যাগাজিন




তখন ছোট। আমাদের বাসা আর নানা-নানুর বাসা পাশাপাশি। নানুর বাসায় বিটিভিতে রাত আটটার সংবাদ খুব মনযোগ দিয়ে দেখতাম। না খবরগুলো না। খেলার খবর। সেটা দেখার জন্যই বসে থাকতাম। যদি হুট করে খেলার খবর চলে যায়! তাই পুরাটা সময় বসে থাকা। খেলার খবর পাওয়ার ওইটাই ছিল ভরসা। সপ্তাহে একদিন মঙ্গলবার বিটিভিতে রাতে নাটক হতো। রাত আটটার সংবাদের পর।

অনুরোধ (গল্প)*

তমার সাথে আমার ডিভোর্স হয়ে যাচ্ছে। কাগজপত্র অনেকটাই রেডি। দুই জনে স্বাক্ষরের পর তার কাজ শেষ। দেড় বছরের সম্পর্ক কাগজে কলমে শেষ হচ্ছে। আমার কেমন লাগছে, তা দেখাচ্ছি না। উপর দিয়ে একটা ফূর্তির ভাব ধরে রেখেছি। তমা আগে থেকে কিছুটা গম্ভীর প্রকৃতির। খুব কাছের কারো সাথে সে অনেক চঞ্চল। আবার দূরের কারো সাথে সে পুরাই অন্যরকম। একটা গাম্ভীর্য নিয়ে থাকে। কিছু বললে হাসি মুখে উত্তর দেয়। তাও মাপা হাসি। অতটুকু। নিজে আগ বাড়িয়ে কিছু বলে না।

বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০১৫

শব্দহীন হাসি (অনুগল্প)

: কিছু মেয়েকে সুন্দর হওয়ার জন্য অনেক সাজতে হয়। অনেক সময় ব্যয় করে তবে ঘর থেকে বেরোতে হয়। আর কিছু মেয়ে এম্নেতেই অনেক সুন্দর। তাদের সাধারণ চেহারাটাই অসাধারণ!
: তো?
: এই মুহূর্তে আমি তেমন একজন অসাধারণ মেয়ের সাথে কথা বলছি।
: এসব কথাগুলো এখন থাক।

বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৫

আড়ি (অনুগল্প)

: আপনার মোবাইলটা একটু দেবেন?
: আমার মোবাইল দিয়ে তুমি কি করবে?
: একটা কথা লিখে আমার মোবাইলে পাঠাবো। আপনি তো কখনও পাঠাবেন না। তাই আমিই পাঠাই।
: তুমি পাঠালে সেটা তো আমার কথা হবে না।
: সান্ত্বনাতো অন্তত পাবো। আমার যখনই মন খারাপ হবে ওই মেসেজটি দেখবো। মন ভালো হবে।

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৫

বিয়ের দাওয়াত (অনুগল্প)

পৃথিবীতে যত ধরণের প্রেম আছে ক্লাসমেট প্রেমটাই সম্ভবত সবচেয়ে জটিল। দুই জনই বেশি বোঝে। কেউ কারো থেকে কম বুঝতে রাজি না।
রফিক আর নীরার সম্পর্ককে এখন আর প্রেম বলা যাবে কিনা সন্দেহ আছে। কেননা নীরা ইদানিং প্রায় সময় বলছে, তার জন্য পাত্র দেখা হচ্ছে। শীঘ্রই বিয়ে।
রফিক কিছু বলে না। বলার স্পেসটুকু তার নেই।

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৫

চার মাস পর (অনু গল্প)

হেলাল আর আফসানা অফিসের একই ডেস্কে কাজ করে। দুইজনের মাঝখানে শুধু একটা হাফ পার্টিশন। আফসানা মেয়েটা সুন্দর। হেলাল কয়েকবার কথা বলার চেষ্টা করেছে। বেশি লাভ হয় নি। মাপা মাপা কথা বলে। সুন্দর হওয়ার গর্ব হয়ত কিংবা তার আচরণই এমন।
হেলাল ডেস্কে এলেই হেসে বলে, হাই আফসানা, কেমন আছেন?
আফসানা গম্ভীর মুখে বলল, ভালো।

সময় (অনুগল্প)

: আপনার গল্প কি শেষ?
: নাতো। গল্প কি এত তাড়াতাড়ি শেষ হয়? গল্পের ডাল আছে, পালা আছে, শাখা আছে, প্রশাখা আছে।
: তাহলে চুপ হয়ে গেলেন যে?
: নিস্তব্ধটাও কিন্তু এক ধরণের গল্প।
: এটা আবার কেমন?
: এটাতে একটু সমস্যা আছে। অন্যের রুলটাও নিজেকে বানিয়ে নিতে হয়। কল্পনায় সেগুলো ভেসে উঠে।

জোড়া চাঁদ (অনু গল্প)

:একটু বের হতে পারবে?
: মাত্র ঘরে ফিরলাম। সারদিন অনেক দৌড়াদৌড়ি করতে হয়েছে। এখন আবার বাহিরে কেন?
: আজ চাঁদটা না অনেক সুন্দর। একা একা ব্যালকনিতে দাড়িয়ে দেখছি। তুমিও প্লিজ একটু বের হও না। চাঁদটা দেখো।
: আমি জোড়া চাঁদ দেখি। একটা চাঁদ দেখি না।
: জোড়া চাঁদ কিভাবে হয়! চাঁদ তো একটাই উঠে। কি যে আবোল টাবোল কথা বলো।
: সরি এখন একটা চাঁদ দেখার জন্য বের হতে বলো নাতো। একটু ফ্রেশ ট্রেশ হবো। খাবো।
: আচ্ছা।

এলার্ম ঘড়ি (অনুগল্প)

: আচ্ছা, আপনি আমাকে এত ঘন ঘন ফোন দেন কেন? ফেসবুকে বসতে না বসতে নক দেন।
: বিরক্ত? ঠিক আছে বিরক্ত হলে আর দিবো না।
: নাতো। আমি কি সেটা বলেছি নাকি?
: প্রশ্ন করলে যে!
: ফোন দিয়ে কথা বলেন না। বেশির ভাগ সময়ই আমার কথা বলতে হয়। আমিই বকবক করি।

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৫

মিথি আজ খুশী : গল্প


ডায়েরীর পাতা প্রায় শেষ পর্যায়ে। নতুন আরেকটি ডায়েরী নিতে হবে। মিথি ডায়েরীর পাতাগুলো উল্টায়। প্রতিদিন সে বাবাকে চিঠি লিখে। এটাকে ঠিক চিঠি বলা যায় না। কেননা লেখাগুলো ডায়েরীতেই থেকে যায়। পোস্ট করা হয় না। তবে যেহেতু লেখাগুলো বাবার উদ্দেশ্যেই লেখা হয় তাই চিঠি হিসেবেই দেখে। লেখার ওপর শিরোনাম দেয়। চিঠিতে সাধারণত শিরোনাম দেয়া হয় না।