শনিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১২

পরিবর্তন হলো (গল্প)

বুকের ভিতরটায় অন্যরকম লাগছে নীলা আহমদের। যদি ঠিক ধরতে পারছে না, এটা ভাল লাগার না খারাপ লাগার। যদিও নীলা আহমদ তার আসল নাম না। ভার্চুয়াল জগতে এই নামেই সে পরিচিত। যেসব বন্ধুদের সাথে ব্যক্তিগত পরিচয় নাই তারা এই নামেই তাকে চিনে। ওর আসল নাম জুই সুলতানা। নীল রঙ অনেক পছন্দের। তাই থেকে নীলা নাম নিয়েছে নিজের। আর ওর সবচেয়ে ভাল লাগে হুমায়ুন আহমদের বই। হুমায়ুনের বই হাতের নাগালে পেলেই হলো। সব কিছু বাদ দিয়ে ওই বই পড়তে বসে যায়। সে ছোট বেলা থেকে হুমায়ুনের বইয়ের প্রতি যে আগ্রহ এখনও সে আগ্রহ রয়ে গেছে। প্রিয় লেখকের নামের শেষাংষ যুক্ত করেছে নিজের ভার্চুয়াল নামে। নিজের নাম নিজে দেওয়া। সম্পূর্ণ নিজের পছন্দ অনুযায়ী। ব্যাপারটা ভাবতে ভাল লাগে নীলার। ...............

জিলস ( গল্প )

অনেক বছর আগে একটা প্রাণী ছিল নাম জিলস। ওদের ছয় পা, দুই হাত। বেশি বড় না। তবে আকারটা ডাইনোসরের মত। আকাশে ও মাটিতে দুই জায়গাতেই ওরা চলাচল করতে পারত। তবে ওদের জীবনের বেশির ভাগ সময় কাটত আকাশেই।
ওরা নিজেদের সাথে নিজেরা খুব কথা বলত। একটা জিলস জন্ম নেওয়ার সাথে সাথে কথা বলতে পারত। কেউ মায়ের পেট থেকে বের হল, সাথে চোখ পাকিয়ে বলে, এখানে এত আলো কেন?
...............

গন্ধ ( গল্প )

লাশের গন্ধ। একটা লাশের গন্ধ। নাকে এসে লাগছে তীব্র সে গন্ধ। ফজলুল সাহেব চেয়ার ছেড়ে উঠলেন। নাক শুঁকে দেখার চেষ্টা করছেন এই গন্ধ আসছে কোথা থেকে। মনে হচ্ছে এখানে কেউ লাশ ফেলে গেছে। এমনও তো হতে পারে খুন করে এখানে গুম করা হয়েছে। এটা মনে হতেই ভয় যেন আরো বাড়ল। ডাক দিলেন আবুলকে। কিন্তু কোন সাড়া শব্দ নেই।...............

রোজা ( গল্প )

রোজার সময় রোজা রাখা অনেক সহজ। সবাই রাখে। এজন্য তেমন সমস্যা হয় না। ঐ সময় রোজা রাখাটাই স্বাভাবিক মনে হয়। ইমা যখন ছোট ছিল তখন থেকেই ওর রোজা রাখার ইচ্ছা। মা-কে বলত, আম্মু আমাকে সেহেরীর সময় অবশ্যই ডেকে দিবে। আমি রোজা রাখব।..................

দুঃখ ( গল্প )

ঝর্ণার পানি গুলো পড়ছে অনেক উপর থেকে। একেবারে স্বচ্ছ সে পানি। পানির পড়ার একটা সুন্দর শব্দ। পানি যেখানে পড়ছে সেখানে মাটি জমে গেছে। পাথরের মত শক্ত সে স্থান। পানি পাহাড়ের পথ ধরে অনেক দূর ভিতরে চলে যায়। রকিবের ইচ্ছা হয় ভিতরে গিয়ে সেসব পানি কতদূর যায় তা দেখার। কিন্তু যে পিচ্ছিল আর ঘন বন তা সম্ভব নয়।...........

তানহা আর নাহিদের ফেসবুকীয় কথোপকথন (গল্প)

ইউপি এসের টিট টিট আওয়াজ শুরু হয়েছে। তানহার ভ্রু কুঞ্চিত হয়ে গেছে সে বুঝতে পারছে। নিজের ভ্রু কুঞ্চিত হলে আয়না ছাড়া দেখা সম্ভব না। কিন্তু বুঝা যায়। তানহাও বুঝতে পারছে। পৃথিবীতে তানহার সবচেয়ে অপ্রিয় শব্দ ইউ পি এসের টিট টিট শব্দটি। এই শব্দের মানে হচ্ছে কম্পিউটার অফ করো। .........................

বিজ্ঞান মেলায় (গল্প)


অনিক চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে একটা বেসরকারি বিদ্যালয়ে। এখানে শুধু নিয়ম আর নিয়ম। এটা করা যাবে না, এইটা করতে হবে এরকম হাজারো সীমাবদ্ধতা। বিদ্যালয়ের ছোট্ট একটি মাঠ আছে বটে। তবে সেখানে অনিকরা ইচ্ছে করলেও খেলতে পারে না। মাঠে উঁচু শ্রেণীর ছেলেরা ক্রিকেট খেলে। সেখানে ছোট শ্রেণীর ছেলেদের নেওআ হয় না।
বিজ্ঞান ক্লাস চলছে। সবাই নিরব। এতটুকু শব্দ করার সুযোগ নেই। কেননা জসিম স্যার খুব কড়া। কেউ কথা বললে ভীষণ শাস্তি দেন। কোনো বিষয় না বুঝলে প্রশ্ন পর্যন্ত করার পর্যন্ত সাহস পায় না কেউ। স্যার মাঝে মাঝে ভয়াবহ কান্ড করে বসেন। গত বছরে যেমনটি করেছিলেন। আফসার পিছনের সিটে বসেছিল। পাশের জনের সাথে কথা বলছে। স্যার তা লক্ষ্য করে হাতরে ডাস্টারটি তার দিকে ছুঁড়ে মারেন। কপালের একপাশে লেগে তা নিচে পড়ে যায়। মাথার একপাশ ফেটে রক্ত বের হয়। আফসার নিজের কপাল চেপে ধরে রক্ত বন্ধ করার চেষ্টা চালায়।.......................

শেষ চিঠি (গল্প)

সকাল বেলা। রাত শেষ হয়েছে। আবছা আবছা আলো আসছে চারদিকে। কিছুক্ষণের মধ্যে আলোর বন্যায় প্লাবিত হবে চারপাশ।
চারদিকে আলোকিত। অথচ লিমার মনটা অন্ধকার। যেখানে শুধুই অন্ধকার। ঘুটঘুটে সে অন্ধকার। লিমার মনে হয় পৃথিবী যদি সব সময় অন্ধকার থাকতো তাহলেই ভাল হতো। আলোর দিকে তাকাতে ইচ্ছে হয় না। ইচ্ছে হয় সূর্যকে ঢেকে দিতে কালো কিছু দিয়ে।.....

ইয়াহু (গল্প)

“স্বপ্ন দেখতে অনেক সাহস লাগে। আমার আগে সে সাহস ছিলও। কিন্তু হঠাৎ কি থেকে যে কি হয়ে গেল? স্বপ্ন দেখার সাহসটাই হারিয়ে ফেললাম। এক সময় মনে হতো জীবনটাকে রাখছি কেন? শেষ করে দিলেই তো পারি। তাতে তো কারো ক্ষতি হবে না। বরং কেউবা আপদ থেকে বাঁচবে। কিন্তু পারি নাই। বিশ্বাস করেন পারি নাই। তা যদি মহা পাপ না হতো তাহলে ঠিকই করে ফেলতাম। আপনি স্বপ্ন দেখাতে পারেন, আপনার সাথে আর কথা হবে না. এই একাউন্টটা আজই ডি একটিভ করে দিচ্ছি, আর কোন দিন এই মেইল এড্রেস ওপেন করবো না। আপনি কারণ জানতে চাইতে পারেন, বলছি, আপনার সাথে কথা বললে দেখা যাবে আমি দুঃখ গুলো ভুলে যাচ্ছি, আমার দুঃখগুলো আমারই থাক। সেগুলো ভুলতে চাই না, এখন তো সেগুলোই আমার সম্পদ। অনেক বড় সম্পদ। সেগুলো ভুলব কেন? আমি ধন্যবাদ দিতে পারি না, পারলে দিতাম। ”......

শ্যামা (গল্প)

সুজন শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল এবার একটা প্রেম করবে। বন্ধুদের টিপ্পনি আর ভালো লাগে না। ও যে কোন মেয়ের সাথে সম্পর্ক রাখে না এ ব্যাপারটা নিয়ে প্রায় সময়ই বন্ধুরা জ্বালাতন করে। সন্দেহজনক অস্বস্তিকর কথাও বলে। সবচেয়ে বেশি বলে মেহেদী। মেহেদী এরই মধ্যে এগার জন মেয়ের সাথে প্রেম করেছে। তার মধ্যে আবার সাত জনের অলরেডি বিয়ে হয়ে গেছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে প্রত্যেকটা মেয়ের বিয়েতেই ও গেছে। একা যায় নি। সব বন্ধুকে নিয়ে প্রাক্তন প্রেমিকার দাওয়াত খায় ও।.......